একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ফলাফল প্রকাশ, যেভাবে জানা যাবে

২০১৬-২০১৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ফলাফল আজ (১৬ জুন ২০১৬) দুপুরে প্রকাশিত হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফল প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী ছিল ১৪ লাখ ৫৫ হাজার ৩৬৫ জন। এর মধ্যে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আবেদন করেছিল ১৩ লাখ এক হাজার ৯৯ জন। উত্তীর্ণ হয়েও আবেদন করেনি এক লাখ ৫৪ হাজার ৩৬৬ জন শিক্ষার্থী। এবার মোট ভর্তিযোগ্য কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয় হাজার ৮৫ টি। এর মধ্যে ৪৮টি প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য কোনো শিক্ষার্থী আবেদন করেনি। এর মধ্যে ৩৬টি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ১০টি মাদ্রাসা ও দুটি কলেজ রয়েছে। এবারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে মোট আসন আছে ২১ লাখ ১৪ হাজার ২৫৬ টি।
শিক্ষার্থীদের ফলাফল ভর্তির আবেদনের সময় দেয়া মোবাইল নম্বরে এসএমএসের মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হবে। ক্ষুদে বার্তায় একটি গোপনীয় পিন নম্বর প্রদান করা হবে। এই পিন নম্বরটি পরবর্তী ভর্তি নিশ্চয়নের জন্য সংরক্ষণ করতে হবে।
এছাড়াও শিক্ষার্থীর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার রোল নম্বর, বোর্ড, পাসের সন, রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করে ভর্তির ওয়েবসাইট (www.xiclassadmission.gov.bd) থেকে বিস্তারিত ফলাফল পাওয়া যাবে।
নির্বাচিত কলেজ সম্পর্কে জানা যাবে এই লিংকে- http://app4.xiclassadmission.gov.bd/board/ResultView
ভর্তির যোগতা ও শাখা নির্বাচন :
বিজ্ঞান শাখা থেকে- বিজ্ঞান, মানবিক, ব্যবসায় শিক্ষা শাখার যেকোনো একটিতে; মানবিক শাখা থেকে- মানবিক, ব্যবসায় শিক্ষা শাখার যেকোনো একটিতে; ব্যবসায় শিক্ষা থেকে উত্তীর্ণরা ব্যবসায় শিক্ষা এবং মানবিক শাখার যেকোনো একটি গ্রুপে ভর্তি হতে পারবে।
প্রার্থী নির্বাচন পদ্ধতি :
বরাবরের মতো এবারও এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে একাদশ শ্রেণির ভর্তিতে প্রার্থী নির্বাচন করা হবে। বিভাগীয় এবং জেলা সদরের কলেজগুলোতে মোট আসনের ৮৯ শতাংশ সাধারণ শিক্ষার্থীর জন্য উন্মুক্ত থাকবে। বাকি ১১ শতাংশের মধ্যে- ৫% মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, সন্তানের সন্তানদের জন্য; ৩% মফস্বল তথা জেলা সদর এবং বিভাগের বাইরের শিক্ষার্থীদের জন্য; ২% শিক্ষা মন্ত্রণালয়, এর অধিনস্ত দপ্তর, উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক, কর্মচারী ও গভর্নিং বডির সদস্যদের জন্য।
এবার নতুন করে যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসফি) জন্য শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ অনুরূপভাবে প্রবাসীর সন্তানদের জন্য শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ। তবে এসব কোটায় ভর্তি হতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং প্রতিষ্ঠান থেকে সরবরাহ করতে হবে। যার মাধ্যমে কোটায় আবেদন করা প্রার্থীকে সনাক্ত করা যায়। কোটায় প্রার্থী পাওয়া না গেলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ভর্তি হতে পারবে।
সমান জিপিএ পেলে তাদের নম্বরের ভিত্তিতে মেধাক্রম তৈরি হবে। সাধারণ বোর্ডের মতো মাদরাসা, কারিগরি এবং উন্মুক্ত বিশ্ববিদলয় থেকে প্রাপ্ত গ্রেড ও নম্বর সমতুল্য হিসাব করতে হবে।
বিজ্ঞান বিভাগে একাধিক প্রার্থীর জিপিএ এবং প্রাপ্ত নম্বর সমান হলে মেধাক্রম নির্ধারণ সাধারণ গণিত, উচ্চতর গণিত, জীববিজ্ঞানে প্রাপ্ত নম্বর বিবেচনা করা হবে। এতেও সমাধান না হলে পর্যায়ক্রমে ইংরেজি, পদার্থ, রসায়নে প্রাপ্ত নম্বর বিবেচনায় আনা হবে।
এক গ্রুপ থেকে অন্য গ্রুপে ভর্তির ক্ষেত্রে জিপিএ এবং নম্বর একই হলে মেধাক্রম নির্বাচনে ইংরেজি, গণিত ও বাংলা বিষয়ের নম্বর দেখা হবে।
স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে পাস করা শিক্ষার্থীরা তাদের প্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্র অগ্রাধিকার পাবে। প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ভর্তির পরে আসন খালি থাকা সাপেক্ষে ওপরের নিয়মানুযায়ী ভর্তি কার্যক্রম চলবে।
মন্ত্রণালয় থেকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থী ভর্তি করবে। ইচ্ছা মতো ভর্তি করার সুযোগ নেই।
ভর্তির সময়সূচি :
১৬ জুন মনোনীতদের মেধানুযায়ী তালিকা আবেদনকৃত প্রতিটি প্রতিষ্ঠান প্রকাশ করবে। ১৮ থেকে ২২ জুন মেধা তালিকা এবং ২৩ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত অপেক্ষমাণ তালিকার ভর্তিচ্ছুরা পছন্দের প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারবে।
তবে ১০ থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত বিলম্ব ফি দিয়ে ভর্তির সুযোগ থাকছে। ১০ জুলাই একাদশের শ্রেণি কার্যক্রম শুরু হবে। ৭ থেকে ১৮ আগস্টের মধ্যে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ রেজিস্ট্রেশন ও অন্যান্য ফি বোর্ডে জমা দিতে হবে। ২২ থেকে ৩১ আগস্ট ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট ফি জমার স্লিপ বোর্ডে প্রদান করতে হবে।
ভর্তি ফি :
সেশন ফিসহ ভর্তি ফি সর্বসাকুল্যে মফস্বল/পৌর (উপজেলা) এলাকায় ১ হাজার টাকা। পৌর (জেলা সদর) ২ হাজার টাকা। ঢাকা ছাড়া অন্যান্য মেট্রোপলিটন এলাকায় ৩ হাজার টাকা।
ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে সেশন ফিসহ ভর্তি ফি সর্বসাকুল্যে ৫ হাজার টাকা। আংশিক এমপিওভুক্ত, এমপিও বহির্ভুত প্রতিষ্ঠানে উন্নয়ন ফিসহ বাংলা মাধ্যমে ৯ হাজার, ইংরেজি ভার্সনে ১০ হাজার টাকা। কোনোভাবেই উন্নয়ন ফি ৩ হাজারের বেশি হবে না। সকল প্রকার ফি রশিদ প্রদানের মাধ্যমে গ্রহণ করতে হবে।
অন্যান্য ফির সঙ্গে বোর্ড থেকে নির্ধারিত আরো ফি :
রেজিস্ট্রশন ফি ১২০, ক্রীড়া ফি ৩০, রোভার/রেঞ্জার ফি ১৫, রেড ক্রিসেন্ট ফি ২০, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফি ৭, বিএনসিসি ফি ৫ টাকা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করতে হবে। কোনো শিক্ষার্থীর পাঠ বিরতি থাকলে ১০০ টাকা সঙ্গে বিলম্ব ভর্তি ফি ৫০ টাকা প্রদান করতে হবে।

Rate this post

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

You cannot copy content of this page