২০১৬-২০১৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির নীতিমালা প্রকাশ

২০১৬-২০১৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির নীতিমালা (২০১৬) প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তিতে দেশের সকল সরকারি-বেসরকারি কলেজে অনলাইন ও এসএমএসে আবেদন শুরু হবে আগামী ২৬ মে থেকে। অনলাইন ও টেলিটক মোবাইলের মাধ্যমে এসএমএসে ভর্তির আবেদন করা যাবে ৯ জুন ২০১৬ তারিখ পর্যন্ত।
ভর্তির জন্য মনোনীতদের তালিকা প্রকাশ করা হবে ১৬ জুন। ভর্তি শুরু হবে ১৮ জুন, ১০ জুলাই থেকে ক্লাস শুরু হবে।
এবার ভর্তি প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীরা পাঁচটির পরিবর্তে সর্বোচ্চ ১০টি পছন্দের কলেজের নাম দিতে পারবে। একই সঙ্গে প্রথমবারের মতো প্রবাসীদের সন্তান ও বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) শিক্ষার্থীদের জন্য কোটা রাখা হয়েছে। বিগত কয়েক বছরের মতো এবারও এসএসসির ফলের ভিত্তিতেই একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।
অনলাইনে আবেদনের ঠিকানা www.xiclassadmission.gov.bd। যারা ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছেন তাদেরও এ সময়ের মধ্যে আবেদন করতে হবে।
নীতিমালা অনুযায়ী, ভর্তি ১৮ জুন শুরু হয়ে শেষ হবে ৩০ জুন। বিলম্ব ফি দিয়ে ১০ থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত ভর্তি হওয়া যাবে। একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হবে ১০ জুলাই। নীতিমালায় বলা হয়েছে, অনলাইনে ১৫০ টাকা আবেদন ফি জমা দিয়ে সর্বোচ্চ ১০টি কলেজে আবেদন করা যাবে। অনলাইনে একবারই আবেদন করা যাবে। এসএমএসের মাধ্যমে আবেদনের ক্ষেত্রে প্রতি কলেজের জন্য ১২০ টাকা ফি দিতে হবে। এ ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে পছন্দক্রমে রাখতে পারবেন শিক্ষার্থীরা। এসএমএসে ১০ কলেজে ভর্তির আবেদনে শিক্ষার্থীকে এক হাজার ২০০ টাকা খরচ করতে হবে।
শিক্ষার্থীর আবেদনে পছন্দের প্রতিটি কলেজেই তার মেধাক্রম নির্ধারণ করা হবে বলে নীতিমালায় জানানো হয়েছে। গত বুধবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। এবার গড় পাসের হার ৮৮ দশমিক ২৯ শতাংশ। আট বোর্ডের অধীনে এসএসসিতে পাসের হার ৮৮ দশমিক ৭০ শতাংশ। নীতিমালায় বলা হয়েছে, এবার মাধ্যমিক উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী ছাড়াও ২০১৪ ও ২০১৫ সালের পরীক্ষায় উত্তীর্ণরাও একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হতে পারবেন। নীতিমালা অনুযায়ী, মফস্বল/পৌর (উপজেলা) এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সেশন চার্জসহ সর্বসাকুল্যে এক হাজার টাকা, পৌর (জেলা সদর) এলাকায় ২ হাজার টাকা এবং ঢাকা ছাড়া অন্য মেট্রোপলিটন এলাকায় ৩ হাজার টাকার বেশি ফি নেওয়া যাবে না।
ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থী ভর্তিতে ৫ হাজার টাকার বেশি নিতে পারবে না। ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় আংশিক এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ও এমপিওবহির্ভূত শিক্ষকদের বেতন-ভাতা দেওয়ার জন্য ভর্তির সময় মাসিক বেতন, সেশন চার্জ ও উন্নয়ন ফি বাবদ বাংলা মাধ্যমে ৯ হাজার টাকা এবং ইংরেজি মাধ্যমে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। উন্নয়ন খাতে কোনো প্রতিষ্ঠান ৩ হাজার টাকার বেশি নিতে পারবে না বলে নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, বিভাগীয় সদরের কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কলেজের ৮৯ শতাংশ আসন সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। অবশিষ্ট ১১ শতাংশ আসনের মধ্যে ৩ শতাংশ সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় সদরের বাইরের এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য, ৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা এবং ২ শতাংশ শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এর অধীনস্ত দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারী এবং স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের সন্তানদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তির ক্ষেত্রে সমান জিপিএ-প্রাপ্তদের মেধাক্রম নির্ধারণের ক্ষেত্রে সাধারণ গণিত, উচ্চতর গণিত অথবা জীববিজ্ঞানে প্রাপ্ত জিপিএ বিবেচনায় আনা হবে। মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে সমান জিপিএ-প্রাপ্তদের ভর্তির ক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমে ইংরেজি, গণিত ও বাংলায় অর্জিত গ্রেড পয়েন্ট বিবেচনা করা হবে।
নীতিমালা অনুযায়ী, এক বিভাগের প্রার্থী অন্য বিভাগে ভর্তির ক্ষেত্রে গ্রেড পয়েন্ট একই হলে সর্বমোট প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে মেধাক্রম নির্ধারণ করা জবে। এরপরও জটিলতা হলে ইংরেজি, গণিত ও বাংলা বিষয়ে অর্জিত পয়েন্ট বিবেচনায় আনতে হবে। স্কুল ও কলেজ সংযুক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অগ্রাধিকারভিত্তিতে নিজ প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পাবেন।

Rate this post

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

You cannot copy content of this page