শিক্ষা বার্তা

৬টি অবৈধ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদের নির্দেশ

অবৈধভাবে পরিচালিত ঢাকার ছয়টি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে স্থায়ীভাবে উচ্ছেদ করতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছে সরকার।
গতকাল রোববার ঢাকার জেলা প্রশাসককে এসব প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়ে চিঠি দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সূত্রমতে, ধানমন্ডি, উত্তরা, লালমাটিয়া, গুলশানসহ ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন অঞ্চলে একশ্রেণীর অবৈধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সনদ বিক্রি করে চলছে। আবার, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০ অনুযায়ী, বাংলাদেশে যেকোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা অবৈধ। এমনকি বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে বাংলাদেশের যেকোনো স্থানে স্থাপিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও বৈধ নয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সিদ্ধান্ত লঙ্ঘন করে দেশে এসব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় একাধিক অবৈধ শাখা খুলে শিক্ষা কার্যক্রম চালাচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আইনের আশ্রয় নিয়ে একশ্রেণীর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস এবং বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের দেশীয় শাখা পরিচালিত হচ্ছে।
গতকাল যে ছয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসককে চিঠি দেওয়া হয়েছে সেগুলো হলো ধানমন্ডিতে অবস্থিত ভিক্টোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, ভুইয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, এসএএফএস, চ্যান্সেরি একাডেমি অব ইংলিশ ল, লালমাটিয়ায় অবস্থিত নর্থ আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয় এবং উত্তরায় অবস্থিত দি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ১০ জানুয়ারি এ ছয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়। প্রায় দুই মাস পর মন্ত্রণালয়ের আইন শাখা ওই অবৈধ প্রতিষ্ঠানগুলো উচ্ছেদের নির্দেশ দিল। জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব মোহাম্মদ আবু সাঈদ মোল্লা স্বাক্ষরিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে এতে অবৈধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ করতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করাসহ দ্রুত প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ইউজিসির চেয়্যারম্যান এ কে আজাদ চৌধুরী গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ঢাকা মহানগর ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে বেশ কিছু ভুয়া ও অবৈধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান মূলত সনদ বিক্রি করছে।
ঢাকা শহর থেকে উচ্ছেদের উদ্যোগ নেওয়া ছয়টি অবৈধ উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জানতে চাইলে ইউজিসির চেয়্যারম্যান বলেন, ‘আমার ধারণা, ঢাকা মহানগরে এগুলোর বাইরেও আরও অবৈধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে।’ তিনি বলেন, ইউজিসি কেবল সুপারিশ করতে পারে, কিন্তু প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের দায়িত্ব প্রশাসন বা পুলিশের।
ইউজিসি সূত্র জানায়, এর আগেও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের ৫৬টি অবৈধ উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকা তৈরি করেছিল ইউজিসি। জনস্বার্থে ওই প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করে পত্রিকায় বিজ্ঞাপনও দেওয়া হয়েছিল। এগুলোর মধ্যে কয়েকটি স্বাভাবিকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে এ কে আজাদ চৌধুরী বলেন, ভুয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো চাপের মুখে পড়লেই আইনের আশ্রয় নেয়। সেটা বন্ধে শিক্ষা কমিশন করে ইউজিসির হাতে কিছু ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা পরিচালনা নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে।
যে ছয়টি অবৈধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে সেগুলোর তিনটির নাম অনুমোদিত বিশ্ববিদ্যালয়ের নামের মতোই।
ইউজিসি সূত্র জানায়, উচ্ছেদের নোটিশ দেওয়া ভিক্টোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ধানমণ্ডিতে অবস্থিত। একই নামে রাজধানীর পান্থপথে সরকার অনুমোদিত আরেকটি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। লালমাটিয়ায় নর্থ আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয় নামের একটি কাছাকাছি নামে বৈধ বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে।
এ ছাড়া আমেরিকান বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি (আম্বান) নামে একসময় একটি অনুমোদিত বিশ্ববিদ্যালয় থাকলেও শর্ত পূরণ করতে না পারায় সরকার এর সনদ বাতিল করে। এর পর থেকে আম্বান আইনের আশ্রয় নিয়ে মূল ক্যাম্পাসসহ কয়েকটি শাখা পরিচালনা করছে।
সূত্র: প্রথম আলো | তারিখ: ১১-০৩-২০১৩

Rate this post

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

You cannot copy content of this page